শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

ধর্ম কখনো অধর্মের জন্ম দেয়, কিন্তু সব অধর্মের জন্য ধর্ম দায়ী নয়

Sanymoon Hasib Zaki
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশ উদ্বেগজনক। প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম হচ্ছে—মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমামরা শিশুদের যৌনপীড়ন করছে।

ইসলাম, কোরআন ও হাদিস শিক্ষার নামে ধর্মের মাওলানাদের যৌনাচার, শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার—এসবকে ‘ইসলামি ধর্ষক’ হিসেবে অভিহিত করায় ধর্মে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী মানুষদের মধ্যে এ ধর্মের অতীত ইতিহাস নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক তৈরি হচ্ছে।

কেন? কী কারণে? দ্বীন ইসলামে বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানেরা অবাধ ধর্ষণে লিপ্ত হচ্ছে।

ধর্ম ইসলামের প্রচারক নবী মুহাম্মদ, খলিফাদের জীবনী ও কোরআনে কোথাও কি শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বলা আছে?

কেন শুধুমাত্র ধর্মের লেবাস-পরা ব্যক্তিদের দ্বারাই এমন অপরাধকর্ম সংঘটিত হচ্ছে?

ইসলাম ধর্মের প্রচারক সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর সবচেয়ে কম বয়সী স্ত্রী ছিলেন বিবি আয়েশা (রা.)। এবং আয়েশা (রা.) এর বয়স যখন ৯ বছর উনাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়।

নবী মুহাম্মদের এ বিয়ে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ হলেও, বর্তমান যুগে বাংলাদেশের নারী ও শিশু অধিকার আইন, ২০০০-এর ব্যত্যয়। এমনকি পৃথিবীর যেকোনো সভ্য দেশ ও সমাজব্যবস্থা এটিকে একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথে বাঁধা হিসেবেই অভিহিত করে। এবং এমন আচরণ যে কোন শিশুর জীবনকে একটি অদৃশ্য কারাগারে পরিণত করে।

একটি শিশুর মানসিক বিকাশকে বিপর্যস্ত করাটা মানবিক দৃষ্টিকোণ সহ মানবাধিকারের সাথে কতটা সভ্যতা দেখায় সে প্রশ্ন উত্থাপন এমন ক্ষেত্রে অযৌক্তিক নয়।

কোরআনে সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০-এ নবীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে যে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির নারী তাঁর জন্য বৈধ এবং একজন মুমিন নারী নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণ করলে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেটিও তাঁর জন্য বিশেষভাবে বৈধ—“অন্য মুমিনদের জন্য নয়”।

ইসলাম এখানে সংবেদনশীল নয়। ইসলামের আবির্ভাব যার হাত ধরে, সেখানেই ইসলামের শান্তি, মানবতা ও ন্যায়বিচারের আলখেল্লা খসে পড়েছে। ইসলামের অতীত ইতিহাসের রেখে যাওয়া উদাহরণ সে অর্থবহ ইঙ্গিতই বহন করছে।

ধর্মের মাওলানা, মুফতি, ওয়াজিন, মসজিদের ইমাম, খতিব—এ ধরনের লেবাসে অপরাধকে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরা ধর্ষক। এরাই বলাৎকার করে। এদের মধ্যেই ভিন্ন যৌনতা ও সমকামীদের বসবাস।

সমকামিতা অপরাধ নয়। যৌনতা ও এর পরিচয়ে কোনো অপরাধ নেই। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ধর্মের নামে, কোরআন, হাদিস, কিয়াস—এসবের মধ্য দিয়ে যেকোনো ধরনের যৌনাচার অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে করা হলে এটি অপরাধ।

ইসলাম ধর্মে কোথাও শিশু বলাৎকারের বিষয়ে বলা নেই। বলা নেই, কোনো মানুষ ধর্মের লেবাস পরে এমন অপরাধ সংঘটিত করলে কী শাস্তি তাকে পেতে হবে। কখনো কখনো ধর্মই অধর্মের উৎপত্তি করে। কিন্তু ধর্মই সবকিছুর জন্য দায়ী নয়।


আরও পড়ুন