সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশ উদ্বেগজনক। প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম হচ্ছে—মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমামরা শিশুদের যৌনপীড়ন করছে।
ইসলাম, কোরআন ও হাদিস শিক্ষার নামে ধর্মের মাওলানাদের যৌনাচার, শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার—এসবকে ‘ইসলামি ধর্ষক’ হিসেবে অভিহিত করায় ধর্মে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী মানুষদের মধ্যে এ ধর্মের অতীত ইতিহাস নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক তৈরি হচ্ছে।
কেন? কী কারণে? দ্বীন ইসলামে বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানেরা অবাধ ধর্ষণে লিপ্ত হচ্ছে।
ধর্ম ইসলামের প্রচারক নবী মুহাম্মদ, খলিফাদের জীবনী ও কোরআনে কোথাও কি শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বলা আছে? কেন শুধুমাত্র ধর্মের লেবাস-পরা ব্যক্তিদের দ্বারাই এমন অপরাধকর্ম সংঘটিত হচ্ছে?
নবী মুহাম্মদ তাঁর সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আয়েশাকে (৬ বছর বয়সে) বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স প্রায় ৫৪ বছর। এবং বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, নবী নাবালিকা আয়েশার ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই আয়েশার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু এবং যৌন মিলন করেন। এবং এ বিয়ের ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তাঁর নবীকে স্বপ্নে প্ররোচিত করার বিষয়টিও এসেছে বিভিন্ন রেওয়ায়েতে।
নবী মুহাম্মদের এ বিয়ে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ হলেও, বর্তমান যুগে বাংলাদেশের নারী ও শিশু অধিকার আইন, ২০০০-এর ব্যত্যয়। এবং তিনি একজন শিশু ধর্ষণকারী হিসেবে অভিযুক্ত হতেন। এমনকি পৃথিবীর যেকোনো সভ্য দেশ ও সমাজব্যবস্থা এটিকে একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথে বর্বরতা হিসেবেই অভিহিত করে।
যেকোনো অবিশ্বাসী প্রশ্ন তুলতেই পারে, নবী মুহাম্মদ কি আরবের এপস্টিন? শিশুর যৌনাঙ্গের প্রতি এ বিকৃত লালসা নবীকে কি একজন বর্বর ভেড়ার মতো একজন নাবালিকা নারী শিশুর প্রতি তাঁকে ভেড়ার পাল থেকে যৌনপাল পয়গম্বরে পরিণত করেছিল কি না—এমন প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি তা না-ই হয়, কেন ১১ স্ত্রী ও ২ যৌনদাসী থাকার পরও নবীর যৌন জীবন এতটা বেপরোয়া?
কোরআনে সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০-এ নবীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে যে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির নারী তাঁর জন্য বৈধ এবং একজন মুমিন নারী নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণ করলে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেটিও তাঁর জন্য বিশেষভাবে বৈধ—“অন্য মুমিনদের জন্য নয়”।
অর্থাৎ এ আয়াতের মধ্য দিয়ে শিশু ধর্ষণে কোরআনে নবী মুহাম্মদকে এক ধরনের বৈধতা দেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে। যা আরবের জাহেলিয়াত যুগেরই নিদর্শন।
এমনকি স্বয়ং মুসলমানদের সৃষ্টিকর্তা তথা দুজাহানের মালিক আল্লাহকে বানালেন ধর্ষণের নির্দেশদাতা—এমন অভিযোগও উত্থাপিত হতে পারে। মহান আল্লাহ তাঁর সপ্ত আসমানের ওপর পবিত্র স্থানে থেকে এমন অপবিত্র একটি গর্হিত কাজের নির্দেশনা তাঁর নবীকে দিয়েছিলেন কি না, সেটিও একটি প্রশ্ন। নাকি নবী মুহাম্মদ নিজেই নিজের কাম ও বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কোরআনের স্বরচিত আয়াত নাজিল করে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন ধর্ষণে—এটি যেকোনো ইসলাম ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষের একটি সাধারণ প্রশ্ন।
ধর্মের মাওলানা, মুফতি, ওয়াজিন, মসজিদের ইমাম, খতিব—এ ধরনের লেবাসে অপরাধকে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরা ধর্ষক। এরাই বলাৎকার করে। এদের মধ্যেই ভিন্ন যৌনতা ও সমকামীদের বসবাস।
সমকামিতা অপরাধ নয়। যৌনতা ও এর পরিচয়ে কোনো অপরাধ নেই। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ধর্মের নামে, কোরআন, হাদিস, কিয়াস—এসবের মধ্য দিয়ে যে কোনো ধরনের যৌনাচার অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে করা হলে এটি অপরাধ।
ইসলাম ধর্মে কোথাও শিশু বলাৎকারের বিষয়ে বলা নেই। বলা নেই, কোনো মানুষ ধর্মের লেবাস পরে এমন অপরাধ সংঘটিত করলে কী শাস্তি তাকে পেতে হবে। কখনো কখনো ধর্মই অধর্মের উৎপত্তি করে। কিন্তু ধর্মই সবকিছুর জন্য দায়ী নয়।
@ahm39953912
আমার সর্বশেষ সকল আপডেট ও চিন্তাভাবনা এক্স (টুইটার)-এ সরাসরি পেতে ফলো করুন।
Follow on X