বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার একজন ধারক হিসেবে আমি সুদীর্ঘদিন ধরে, বলতে গেলে আবাল্য, বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে রাজনৈতিক দল বা মত, সেগুলো সমর্থন করে এসেছি। বিএনপি সরকারের যে অভূতপূর্ব বিজয় ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে, সেটা আমার জন্য একটা বিশাল আশার বাণী বহন করেছে। বিশেষ করে ইউনুস সরকারের দু’বছরে, বা দু’বছরের কিছু কম সময়ে, উগ্র মৌলবাদীদের যে দৌরাত্ম্য, আস্ফালন এবং লম্পঝম্প আমি দেখেছি, তাতে ২০২৪ সালের যে জুলাই আন্দোলন এবং সেই জুলাই আন্দোলনের যে বিজয়, তা অনেকখানি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।
এখন কেন সেটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল?
কেননা, আমার যে জাতীয়তাবাদী চেতনা, সে চেতনার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের ফসল ভোগকারীদের যে তথাকথিত চেতনা, সেটার আকাশ-পাতাল ফারাক। এ কারণেই মূল সমস্যাটা হচ্ছে—বাংলাদেশকে কোথায় রাখা হচ্ছে গুরুত্বের দিক থেকে?
আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ সবার আগে। যে কারণে আমি জাতীয়তাবাদী ধারার অধিকারী, জাতীয়তাবাদী চেতনার একজন ধারক।
এ একই জিনিস কিন্তু এই জুলাই আন্দোলনে যারা তথাকথিত যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে দেখা যায় না। তাদের কাছে বাংলাদেশের চেয়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও অন্যান্য বিষয় আছে। তার মধ্যে ধর্ম, ধর্মীয় রাজনীতি, ধর্মীয় শাসন কায়েম করা, পরকাল—এ ধরনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ আছে, যেটা নিয়ে আমরা সবাই এখন অবহিত।
প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের মতো দুটো প্রভাবশালী গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমকে যেভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হলো গত বছর। একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে যেভাবে মেরে ফেলা হলো, ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটা সামান্য সমালোচনামূলক কথার কারণে—এই সবকিছুই নির্দেশ করে, বাংলাদেশ একটা অশুভ ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।
এখন আমি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের চেতনার যে একজন ধারক, আমি সেটাতে বিশ্বাস করি না। এ ধরনের অশ্লীলতার সঙ্গে আমার কোনো সহমত নেই। আমি মনে করি, এই ধর্মীয় মৌলবাদী যে দল এবং চেতনার যে উত্থান হয়েছে, সেটাকে সমূলে বিনষ্ট করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মতো একটা দল বাংলাদেশের সংসদে বসছে এবং আটাত্তরটি আসন নিয়ে বসছে, সেটা একটা খুবই, খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। দুর্ভাগ্য, আমার ছোটবেলা থেকে প্রিয় দল বিএনপি জামায়াতকে ক্ষমতার স্বাদ দিয়েছিল ২০০১ সালে। এবং পরবর্তীকালেও সুদীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে তাদের সঙ্গে। এটা আমার জন্য একটা লজ্জার বিষয়।
বাংলাদেশে ধর্মীয় যে প্রভাব রাজনীতিতে, সেটা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা খুবই আশঙ্কার একটা বিষয়। এই জিনিসটা যদি রোধ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ ইরানে বা আফগানিস্তানে পরিণত হতে পারে এবং সেই দেশগুলোর বর্তমান কী অবস্থা, সেটা আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।
সে ভবিষ্যৎ যদি আমরা না চাই, তাহলে কিছু জিনিস অবিলম্বে করতে হবে। সংবিধান থেকে ধর্মীয় যত অনুষঙ্গ আছে, সেটা যে ধর্মেরই হোক, বাদ দিতে হবে, সেগুলো বাদ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে যে আইনগুলো আমাদের ফৌজদারি বা দেওয়ানি আইনে প্রোথিত, সেগুলো বাদ দিতে হবে। সমকামিতার বিরুদ্ধে যে আইন, সেটিও এটার মতই। এটা একটা অশোভন, বর্বর আইন।
ধর্ম নিয়ে বা যেকোনো বিশ্বাস নিয়ে কথাবার্তা বলার স্বাধীনতা মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সমূলে উৎখাত করতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে বাংলাদেশে স্থান দেওয়া যাবে না। যে কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে বাতিল করতে হবে এবং কোনোভাবেই তাদেরকে রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না।
জামায়াতসহ এদেরকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, সে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অপমান করে সংসদে বসছে—এ দৃশ্য আমাদের দেখতে হবে না।
বাংলাদেশে জন্ম হয়েছে একটা সেকুলার আইডিয়ার ভিত্তিতে এবং সেই বিষয়টি আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি যে ভুলগুলো করেছে, ঐতিহাসিকভাবে সেই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষা নিয়ে বেগম জিয়া যে ভুল করেছেন, জিয়াউর রহমান যে ভুল করেছেন, সেই ভুল তারেক রহমানের করা চলবে না। দুঃখজনক ভাবে, এই ভুলের দিকে উনি আগাচ্ছেন বলে আমার মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে ধর্মভিত্তিক যেকোনো অনুষঙ্গ শক্তভাবে দমন করতে হবে, খুবই শক্তভাবে।
@ahm39953912
আমার সর্বশেষ সকল আপডেট ও চিন্তাভাবনা এক্স (টুইটার)-এ সরাসরি পেতে ফলো করুন।
Follow on X