দ্বীন ইসলামের ধর্মের টুপির বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, জাতিসত্তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠীদের আগ্রাসনের গল্পটা বেশ পুরনো। এখানে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন যৌন পরিচয় এবং ভিন্ন মতের মানুষদের জীবন বেশ সংকীর্ণ। এদের বেঁচে থাকার পরিচয় হয় সংখ্যালঘু হিসেবে।
বাংলাদেশে দশকের পর দশক ধরে যে ইসলামের চর্চা দৃশ্যমান, সেটি প্রকৃত ইসলাম নয়। এখানে ধর্ম ও ইসলামের নামে মৌলবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা এবং সন্ত্রাসবাদকেই দেখা যায়। ভিন্ন মতের মানুষদের দমনে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মতো একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হয়। এরপর জিহাদের নামে এ মানুষের ওপর নেমে আসে ধর্মান্ধ ও জঙ্গিগোষ্ঠী মুসলমানের আগ্রাসন।
ইসলাম, মুসলমান, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ—এদের মধ্যকার পার্থক্যটা অনেক। ইসলাম কখনো কখনো নিরীহ মুসলমানকেও জিহাদি বানাতে পারে। ধর্ম ইসলাম, কোরআন ও হাদিসের বহু বিষয়ে ভিন্ন মতের মানুষদের সমালোচনা থাকবে। কিন্তু তাদের ধর্মের নামে ‘নারায়ে তাকবির’ বলে হত্যা করাটা কতটা যৌক্তিক?
কোনো ভিন্ন মতের মানুষ যদি বলে, কোরআনে যে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলেছে, আমি তা বিশ্বাস করি না; যদি বলে, কোরআনের ওপর মূত্রত্যাগে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। কাগজ দিয়ে তৈরি একটি বইতে কিছু আরবি অক্ষর, সেটির ওপর মূত্রত্যাগ করলে ঠিক সমস্যাটা কোথায়? এ ধরনের মন্তব্যের কারণে কাউকে আঘাত করা যাবে না। কাউকে হত্যাযজ্ঞ করে তোলা যাবে না।
জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম সহ জঙ্গিবাদের নামে যারা মানুষ হত্যা করে, তারা মূলত মুসলমান নয়; এরা জঙ্গি ও চরমপন্থী। এরাই ধর্মের নামে ধর্ষণ করে, বলাৎকার করে। এদের কাছে এগুলো পবিত্র কর্ম।
ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এ পৃথিবীকেও জান্নাত বানাতে বদ্ধপরিকর। জান্নাতে কোরআনে যে ৭২ হুরের সঙ্গমের অতিরঞ্জিত গল্প, সে গল্পের যৌনতা এসব ধর্মান্ধ মুসলমানের মাথায় উঠে গিয়েছে। এর থেকে মুক্তির উপায় কী?
বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে আদর্শিক রাজনীতি, যেখানে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুসংহত হয়েছিল, কিন্তু ৭৫-পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্রটা ভিন্ন।
স্বাধীনতার পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সাংবিধানিক/আইনি বিধিনিষেধ তুলে নিলেন ৭৫-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান। প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফিরে জামায়াতে ইসলামীসহ সকল মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। ৭২-এর সংবিধান পরিবর্তন, শরিয়াহ আইন জারি, ধর্মীয় স্বাধীনতাকে কুক্ষিগত করা সহ নারী-পুরুষে সমান অধিকার, ভিন্ন যৌন পরিচয়, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষদের হত্যার এক নতুন সমীকরণে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধী, বলাৎকার গোষ্ঠী জামায়াতসহ ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর গাড়িতে মন্ত্রিত্ব দিয়ে জাতীয় পতাকার চরম অবমাননা করেন রাজনৈতিক স্বার্থে। যা বাংলাদেশি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছিল।
২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশেও আজকে মৌলবাদীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর রাজনীতিতে আস্ফালনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে?
কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কি এই মৌলবাদী শক্তিকে ক্ষমতার শীর্ষে দেখতে চেয়েছিল?
এজন্যই কি জীবন দিয়েছিল ছাত্র-জনতা?
এদের টুপি, জোব্বার আড়ালে এখন ধর্ষিতা নারীর যোনির কাঁচা রক্তের গন্ধ, এদের চোখে-মুখে এখনও লেগে আছে ’৭১-এর নারীদের সম্ভ্রমহানির নগ্ন চিত্র। যারা আজও বাংলাদেশে ধর্মের নামে সমগ্র বাংলাদেশকে বলাৎকার আর ধর্ষণের উপাসনালয় বানাতে চায়, কোরআনের আইনের নামে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই নাবালিকা নারীদের ধর্ষণ করতে চায়।
সেই রাজনৈতিক শূকর জামায়াতের সঙ্গে সহাবস্থানের রাজনীতি করার আগে বিএনপির ভাবা উচিত, সবার আগে কোন পথে নিয়ে যেতে চায় তারা আজকের পরিবর্তিত বাংলাদেশকে।
@ahm39953912
আমার সর্বশেষ সকল আপডেট ও চিন্তাভাবনা এক্স (টুইটার)-এ সরাসরি পেতে ফলো করুন।
Follow on X