শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

ধর্মান্ধ উগ্রবাদের নির্মূল করা বিএনপিরই দায়িত্ব

Sanymoon Hasib Zaki
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

জীবন-নারী-ধর্ম—এই তিন বিষয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবারে ধর্ম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট। ধর্মীয় মৌলবাদ ও নারীবিদ্বেষ দুটো বিষয় এমনভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি করেছে যুগের পর যুগ; সেখানে ধর্ম নারীকে কখনো দাসী, কখনো পণ্য, কখনো যৌন লালসার বস্তু হিসেবে বাঁচিয়ে রেখেছে। নারী মুক্তির আন্দোলন এই ধর্ম আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিষ্পেষণের কাছে গৌণ।

নারীদের পর্দার অন্তরালে রাখার রাজনীতি ও ফতোয়া সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত করেছে ধর্ম ইসলামের অনুসারী কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী। বাংলাদেশেও এই মৌলবাদের সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, সেক্যুলারবিরোধী মনোভাব এবং পশ্চাৎপদ চিন্তার সবকিছুই উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীসহ তথাকথিত ধর্মের নামে রাজনীতি করা মুসলমানের মতো দেখতে রাজনৈতিক ইসলামের দলগুলোর নেতাকর্মী, সমর্থকদের মধ্যে। যাদের মাধমে ইসলাম বরাবরেই মতোই বিতর্কিত।

কিন্তু আমার আপত্তি ও দুঃখবোধের জায়গাটা ভিন্ন। ব্যক্তিগত দর্শনে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপি সম্পূর্ণরূপে সেক্যুলার আদর্শকে ধারণ না করলেও, ধর্মীয় সহাবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট। সেখানে জামায়াতসহ ইসলামী উগ্র মৌলবাদীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সহাবস্থান আগামীর বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার ইশতেহার শরিয়াহ আইনের দিকে নিয়ে যাবে কি না, সে প্রশ্নেরও উদ্রেক ঘটায়।

বহু সাধারণ মুসলমানও বাংলাদেশে মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমনকি বর্বরোচিত হামলা, হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটিয়েছে এসব মৌলবাদী চরমপন্থী সম্প্রদায়, গোষ্ঠীগুলো। বিগত দশকে সারাদেশে একযোগে পরিকল্পিতভাবে মুক্তমনা, ভিন্নমত, ব্লগার, লেখক হত্যাকাণ্ডগুলো সাধারণ মুসলমানদেরও ভাবিয়ে তুলেছিল। সারাদেশ হতবিহ্বল হয়ে দেখেছে এদের নৃশংসতা। এভাবে ভিন্নমতের মানুষদের হত্যা করে কি বেহেশতে যাওয়া যায়?

কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সকল মানুষ মৌলবাদের, উগ্রবাদের নির্মূল চায়; সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষকতা তাঁর আদর্শিক ভিত্তির প্রতি আমার বিদ্বেষ তৈরি করে। রাজনৈতিক কালো সন্তান তারেক রহমান, যিনি জিয়া-খালেদার প্রজননে জন্ম নিয়ে ধর্মীয় রাজনীতির বায়োলজিক্যাল জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।

রাষ্ট্রের কি ধর্ম আছে? না, নেই।

রাষ্ট্র কোনো শরিয়াহ আইন, কোনো ধর্মের কানুন, সংবিধানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম বলে রাষ্ট্রের মুসলমানিত্ব রক্ষার এসকল ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি বন্ধ করতে হবে। সংবিধান থেকে ধর্মের এসব প্রভাব ছুড়ে ফেলতে হবে। উঠিয়ে ফেলতে হবে এসব আয়াত। রাষ্ট্র সেক্যুলার, রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম নেই।

রাষ্ট্র থেকে বিএনপিকেই দায়িত্ব নিয়ে ধর্মের প্রভাব ও জামায়াতে ইসলামীর মতো সকল ইসলামপন্থী উগ্র রাজনৈতিক ধর্ষক, বলাৎকারকারী, ইসলামের লেবাসধারী রাজনীতি চিরতরে মুছে ফেলতে হবে। যাদের কারণে আজও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের কালো হিজাব, বোরখা পড়ে একজন অদৃশ্য নারী হিসেবে উপস্থিত হতে হয়। এমন অসংখ্য নারী প্রতিদিন ধর্মীয় মৌলবাদের নির্যাস নিয়ে বেড়ে উঠছে। এদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী শিশুটি জন্মগ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ থেকে ধর্মের উগ্রবাদ, ধর্মীয় রাজনীতি ও শরিয়াহ আইনের নামে ইসলামকে ভুলপথে ব্যবহার যারা করে, সকল উপকরণ মুছে ফেলতে হবে। কারণ এরা ধর্মের নামে, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে এ দেশের ভূখণ্ডকে আফগানিস্তান বানাতে চায়, বানাতে চায় তালেবানি রাষ্ট্র। যেখানে শরিয়াহ আইনের নামে শিশু ধর্ষণ, বহুবিবাহ, বলাৎকার এবং ভিন্ন যৌন পরিচয়, ভিন্নমতের মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্মূল করে দেওয়া হবে।

এই ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ধর্মের ধর্মান্ধ উগ্রবাদের নির্মূল করতে হবে বিএনপি ও এ তারেক রহমানের সরকারকেই, যাতে আগামীতে এ বাংলাদেশে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা আর মাথাচাড়া দিতে না পারে।


আরও পড়ুন