মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

ধর্মের আড়ালে বর্বরতা: ধর্মীয় মৌলবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াত্ব

সানিমুল হাসিব জাকি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলোকে নিয়ে একটা প্রচণ্ড ধারণা বিরাজমান যে, এ দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসততা, অসাধুতা, দুর্নীতি—এ ব্যাপারগুলো অনুপস্থিত। অনেক দিন ধরে এই ধারণা প্রচলিত যে, ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলো বা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো যদি ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে এবং বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতিপরায়ণতা দ্বারা প্রভাবিত, সেটি নির্মূল হবে।

কারণ কী?

কারণ হচ্ছে, এই দলগুলোর ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, লোভহীন। তারা আখিরাতে সুফল পাওয়ার আশায় ইহকালে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে জীবনযাপন করেন। এবং সেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে রাষ্ট্র, জনগণ এবং সমাজ উপকৃত হবে। এই হচ্ছে একটা সার্বিক ধারণা, যা বহুদিন ধরে প্রভাবের মতো চলে আসছে।

সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনাগুলো যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে যেটা দেখা যায়, সেটা হচ্ছে এই তথাকথিত ধর্মপরায়ণ মানুষগুলোর মধ্যে প্রচণ্ড পৈশাচিকতা, বিভীষিকাময় বর্বরতা বিরাজমান। বিশেষ করে শিশু নির্যাতন এবং নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এদের অসাধুতা, কপটতা, ভণ্ডামি—এগুলোর তুলনা মেলা ভার।

কেন এভাবে বলছি? কারণ, যাদেরকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সাধুতা—এগুলোর পরাকাষ্ঠা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের ব্যক্তিগত জীবনে যখন এই ধরনের মারাত্মক অন্ধকার বিরাজ করে, যারা সভ্যতার সবচেয়ে বর্বরতম অপরাধগুলো সংঘটন করেন, চোখের আড়ালে, বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অন্যায় যখন সংঘটন করেন, তখন প্রশ্ন আসে, এই লোকগুলোর আদর্শিক যে ভিত্তি, সেই ভিত্তি আসলে কতটা সমুন্নত? অথবা সেই ভিত্তিটা আদৌ উন্নত কোনো কিছু কি না?

এ প্রশ্নটাই কেন করা হচ্ছে যে, আইরিশ ক্যাথলিক চার্চ বা সাধারণত ক্যাথলিক চার্চগুলোর ক্ষেত্রেও এই ধরনের অপরাধ এবং অভিযোগ সুদীর্ঘকাল ধরে বিরাজমান ছিল এবং এগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই একই জিনিস আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা এবং অন্যান্য উগ্রপন্থীদের মধ্যে দেখেছি।

প্রশ্ন হচ্ছে, এসবের জবাব কী? এসবের ক্ষেত্রে কী করা উচিত?

আমার মতে, বাংলাদেশে যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে, সেটি খুবই কঠোর হলেও মৃত্যুদণ্ড আসলে এদের জন্য অনেক সহজ একটা দণ্ড। এদেরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিতে হবে। এদের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন বোঝেন যে, যা করেছেন, তার জন্য কতটা হারিয়েছেন।

শিশুদের ওপর নির্যাতনের যে ঘটনা একের পর এক উঠে আসছে, তাতে বাংলাদেশের সমাজের এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ধর্ম যে একান্তই একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার থাকা উচিত, বা যদি সম্ভব হয়, ধর্মকে সাংস্কৃতিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে দূরে রাখা উচিত—এ ব্যাপারে যারা দ্বিমত পোষণ করেন, তাদেরকে আমি বলেই আপাতত উত্তর কী?

এই ধরনের বর্বরতার ক্ষেত্রে, এই ধরনের ঘটনাগুলোর ঘটার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের কি অবস্থান উন্নত হয়েছে বাংলাদেশে? আমার তো মনে হয় না। এখন প্রত্যেকটা খাঁটি বা ধর্মাবলম্বী কাউকে পোশাক-আশাকে যদি কেউ দেখে, তাহলে সে আঁতকে উঠবে, মনে মনে একটা আতঙ্ক বিরাজ করবে তার। এটা কি ভালো হয়েছে?

এই হচ্ছে ধর্মের ভাইরাস। এই জিনিসটি কীভাবে নিরাময় করা যায়, তা বাংলাদেশের খোলামনে ভাবতে হবে। দুঃখের বিষয়, এই বর্তমান বাংলাদেশে এটা সম্ভব—আমি দেখি না।


আরও পড়ুন