মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

হিজাব, বোরখা ও নিকাবের দৃশ্য নারীকে অদৃশ্যকরণের

সানিমুল হাসিব জাকি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

হিজাব, নিকাব ও বোরখা কি কেউ স্বেচ্ছায় পড়ে?

না। স্বেচ্ছায় পড়ে না।

এর পেছনে রয়েছে তথাকথিত লিঙ্গধর্ম ইসলাম, ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই চলে আসা রীতিনীতি ও ভয়ের সংস্কৃতি। রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্ম সমান্তরালে নারীর স্বাধীনতাকে খর্ব করে আসছে যুগের পর যুগ।

যৌনাচারী নবী মুহাম্মদের ধর্ম ইসলামে রয়েছে নারীবিদ্বেষ ও দমনমূলক পরিবেশ। কথিত জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া পুরুষদের ৭২ হূর ও পুণ্যবতী স্ত্রীগণের সাথে গুচ্ছ যৌনাচারের ভবিষ্যতের বর্ণনা রয়েছে নবী মুহাম্মদের নাজিল করা কুরআনে।

নারীদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে ইসলাম ও কুরআন নৃশংস ও বর্বর। নবী মুহাম্মদের প্রাগৈতিহাসিক ভূমিকা থেকে এটি স্পষ্ট, ইসলাম প্রচারের পেছনে ধূর্ত মুহাম্মদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ক্ষমতা, অর্থ ও নারী। এবং এই ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করেই নারীদের শিকলবন্দী করা হয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের।

এই ইসলাম মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার জন্ম দিয়েছে। যে চরমপন্থা ধর্ষণ ও বলাৎকারের আদি পিতা নবী মুহাম্মদ থেকে শুরু করে আজকের সময় পর্যন্ত একই ধারাবাহিকতায় অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপিদের দিকে তাকালে বোঝা যায় খুব সহজেই। যাদের আপাদমস্তক কালো বোরখা ও হিজাবের অন্ধকারে ঢাকা। মুখ লুকিয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যেই এ পার্থক্য।

এসব নারীরা পুরুষের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহৃত হতেই বেশি পছন্দ করে। এসব ধর্মান্ধ নারীদের কারণেই নারীমুক্তির প্রশ্ন পেছনে পড়ে থাকে। ধর্ম ও ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে এরা বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। এদের স্বামীরা বহুবিবাহ করবে, শুকরের মতো এদের উলঙ্গ করে একাধিক নারী নিয়ে উন্মাদনায় মত্ত হবে; এবং এরা সবকিছু মেনে নেবে শুধুমাত্র যৌনাচারী নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সৃষ্ট আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এবং এসব পর্দার আড়ালে থাকা নারীরাই মুতআ বিয়ের নামে শত পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয় কথিত ধর্ম ইসলামের নামে। এদের যোনিতে ধর্ম ইসলাম ও নবী মুহাম্মদের বীর্য। যে বীর্য থেকে ভবিষ্যতের মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী শিশুটি জন্মগ্রহণ করবে।

হিজাব, বোরখা ও নিকাবের এ দৃশ্য নারীকে অদৃশ্যকরণের।

এর প্রতিবাদে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য বলেছিলেন; আপনারা কারা?

আপনাদের তো আমরা চিনি না। ভূতুড়ে এসব নারীর অধিকার ও আত্মপরিচয় প্রকাশে বাধার বিরুদ্ধে এটিই ছিল স্পষ্ট প্রতিবাদ।

আজকের এ চিত্র ও অবস্থান শুধুমাত্র নারীদের ধর্মীয় পোশাকবিধির বিরুদ্ধে নয়। ধর্ম ইসলামের নগ্নতার বিরুদ্ধে নয়; এটি ধর্মের নামে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, উপেক্ষিত ও অধিকারহীন নারীদের পক্ষে। এই ধর্ম ইসলাম, কোরআন—এসবকে ছুড়ে ফেলতে হবে। পুড়িয়ে ফেলতে হবে কোরআনের নামে নবী মুহাম্মদের যৌন কেলেঙ্কারি ও তাঁর জীবনের নারী ভোগের বৈধতার এই দলিল। তবেই নারীদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম পুনরুত্থিত হবে।


আরও পড়ুন